ঢাকা ১৭ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শুক্রবার শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন পূর্ব পাকিস্তানের জমিন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ: রক্ত, সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের পথচলা ইজতেমা সহিংসতা মামলার তদন্তে ধীরগতি, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বন্যার দুর্যোগে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই সাংবাদিকতায় স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন হাবিবুর রহমান বাবু মেটা-গুগলের ব্যবসা বাংলাদেশে, কিন্তু জবাবদিহিতা কোথায় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আহ্বান: ডেঙ্গু রোধে সবাইকে হতে হবে সচেতন ফেনীতে সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ শিল্প খাতের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী খুলনা রূপালী ব্যাংকে আওয়ামী সিবিএ নেতাদের ‘ভোল্ট বদল’: কর্মকর্তা হয়রানি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

ওড়িশায় আদিবাসী নারীর হত্যার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা: বাঙালিদের গ্রামে অগ্নিসংযোগ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫,  11:10 PM

news image

ভারতে বিজেপি-শাসিত ওড়িশা রাজ্যের প্রত্যন্ত মালকানগিরি জেলার একটি গ্রামে এক আদিবাসী নারীকে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাঙালিদের একটি পুরো গ্রামে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে আদিবাসীদের একটি বিশাল গোষ্ঠী। রোববারের এই ঘটনা মঙ্গলবার সর্বভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার মালকানগিরির এমভি-২৬ গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ কুড়াল, তলোয়ার, তীর-ধনুক হাতে হামলা চালায়। এই গ্রামে প্রায় ৬০টি বাঙালি বাড়িতে একের পর এক অগ্নিসংযোগ করা হয়। আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন বাঙালি বাসিন্দারা।

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় পোতেরু নদী থেকে পদিয়ামি (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের পর। তিনি রাখেলগুড়া গ্রামের কোয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ছিলেন। আদিবাসীদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নদীর পাশে জমি থাকা সুকুমার মণ্ডল নামে এক বাঙালি কৃষক ও তাঁর পরিচিতরা পদিয়ামিকে অপহরণ ও খুন করেছেন। সুকুমার মণ্ডল অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

এমভি-২৬ গ্রামের বাসিন্দা সত্যজিৎ হালদার বলেন, দুপুরে যখন হাজার হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ গ্রামে হামলা চালায়, প্রায় ৬০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখন মনে হচ্ছিল আর কেউ প্রাণে বাঁচবে না।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় সোমবার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিএসএফ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও, আদিবাসীরা পুলিশের সামনেই বাঙালি গ্রামে ঢুকে আবারও বাড়িতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। অভিযোগ উঠেছে, এই সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল এবং নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

মালকানগিরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনোদ পাটিল জানিয়েছেন, আদিবাসী নারীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শুভরঞ্জন মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় ওড়িশা সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালকানগিরি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বর্তমানে গ্রামের বাঙালি বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে কালেক্টর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ওড়িশা পুলিশের দক্ষিণ পশ্চিম শাখার আইজি কানোয়াল বিশাল সিং জেলা প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে শান্তি বৈঠক করেছেন এবং গ্রামের ১০ কিলোমিটার বৃত্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি