নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, 11:29 PM
স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ কারাফটকে, প্যারোল না পাওয়ায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি পাননি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। ফলে স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়া তো দূরের কথা, কারাফটকে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মরদেহ দেখেই বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। ঘটনাটি সামাজিকমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও মানবিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে পাওয়া যায় তাদের শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
শনিবার সন্ধ্যায় স্বজনরা স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কারাগারে নিয়ে যান। কারা কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় কারাফটকে কয়েক মিনিটের জন্য মরদেহ দেখার সুযোগ দেয় সাদ্দামকে। তবে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
প্যারোল নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্যারোলের বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদন জমা পড়েনি।’
অন্যদিকে পরিবারের দাবি, প্যারোলের জন্য একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করা হয়েছিল। সাদ্দামের মামা হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘বাগেরহাট জেলা প্রশাসনে আবেদন করলে বলা হয়, যেহেতু সাদ্দাম যশোর কারাগারে, তাই তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। পরে যশোর কারাগারে এসে মরদেহ দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘আইন অনুযায়ী যে জেলায় বন্দি থাকেন, প্যারোলের সিদ্ধান্ত সেই জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার।’
তদন্ত চলছে, হত্যা মামলা
এদিকে স্বর্ণালীর বাবা মো. রুহুল আমিন বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যু পানিতে ডুবে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১১ মামলার আসামি সাদ্দাম
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।