ডেস্ক রিপোর্ট
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, 11:31 PM
আদানির বিদ্যুৎ কিনতে বছরে ৪০০–৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত দিচ্ছে বাংলাদেশ: জাতীয় কমিটি
ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের মধ্যে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম অন্যান্য সরবরাহকারীর তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। অসম ও একতরফা চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে প্রতিবছর অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটি।
রোববার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত থেকে মোট ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে, যার মধ্যে আদানি পাওয়ার সরবরাহ করে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। বাকি বিদ্যুৎ আসে সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য উৎস থেকে
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান বলেন, আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিতে “সাংঘাতিক অনিয়ম ও দুর্নীতির” প্রমাণ পাওয়া গেছে। লন্ডনের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের তথ্য আন্তর্জাতিক মানের দুর্নীতি মামলায়ও বিরল। চুক্তির সঙ্গে জড়িত সাত থেকে আটজনের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার। এসব তথ্য ও প্রমাণ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দেওয়া হয়েছে এবং সংস্থাটি তদন্ত শুরু করেছে।
তিনি জানান, আদানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ দশমিক ৬১ সেন্টে, কিন্তু চুক্তির শর্তের মারপ্যাঁচে ২০২৫ সালে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্ট। অন্য উৎস থেকে একই সময়ে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় প্রতি ইউনিটে ৪–৫ সেন্ট বেশি দিতে হচ্ছে।
জাতীয় কমিটির প্রধান বিচারপতি (অব.) মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “চুক্তি বাতিল বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন বিদ্যুৎ বিভাগের। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সীমিত, তাই আমরা আশা করি পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
এ বিষয়ে আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এখনো পর্যালোচনা প্রতিবেদনের কপি পায়নি এবং বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। তাই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।