ডেস্ক রিপোর্ট
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:34 PM
‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া: ক্ষমতা, সংগ্রাম ও ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। গৃহবধূ হিসেবে জীবন শুরু করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া—এই উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর যখন বিএনপি সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত, তখনই খালেদা জিয়াকে সামনে নিয়ে আসে দল। ১৯৮৩ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং এক বছরের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন। সেই সময় সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে সাতদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
দীর্ঘ আট বছর রাজপথে আপসহীন আন্দোলনের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য আসে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার সাফল্য ছিল বিরল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ২৩টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন করে একটিতেও পরাজিত হননি। জনপ্রিয়তার বিচারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন দৃষ্টান্ত খুব কমই আছে।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন কেবল ক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কারাবাস, মামলা, রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতা ও যোগাযোগহীন জীবনও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবুও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে তিনি আপসহীন ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছেন খালেদা জিয়া। ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে একাধিকবার বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় স্থান দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি সিনেট তাঁকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ হিসেবে সম্মানিত করে।
মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, উত্তাল ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের অবসান হলো।