ঢাকা ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত নেতার ছেলেকে রিভলবার ঠেকিয়ে বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সবার জন্য ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের বাংলাদেশ গড়া হবে: জামায়াত আমির ইসলামের পক্ষে ‘একটি বাক্স’ দেওয়ার ঘোষণা, অপপ্রচারের অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আদানির বিদ্যুৎ কিনতে বছরে ৪০০–৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত দিচ্ছে বাংলাদেশ: জাতীয় কমিটি স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ কারাফটকে, প্যারোল না পাওয়ায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন জেটিআই বাংলাদেশ দেশের নম্বর ওয়ান টপ এমপ্লয়ার হিসেবে স্বীকৃত মহিউদ্দিন খান খোকন: বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের এক নক্ষত্রের নাম কুমিল্লায় সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল পার্টনারস সামিট অনুষ্ঠিত পিনাকল হেলথ কেয়ারে নতুন ডেন্টাল ইউনিট ও হোম স্যাম্পল কালেকশন সার্ভিস আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ও শিক্ষার নতুন ভাবনা

সবার জন্য ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের বাংলাদেশ গড়া হবে: জামায়াত আমির

#

ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬,  10:48 PM

news image

১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একজন সাধারণ কৃষক বা মেহনতি মানুষ যে অপরাধে শাস্তি পাবে, রাষ্ট্রপতিও একই অপরাধ করলে একই শাস্তি পাবেন। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, আমরা বেকারদের সম্মান দিতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে চুরি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের কারণে। এসব বন্ধ করা গেলে স্বাভাবিকভাবেই কারখানাগুলো চালু হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, দেশ উৎপাদনে এগিয়ে যাবে, নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই দেশকে সমৃদ্ধ করা হবে। ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোট মানে বাংলাদেশ, না ভোট মানে আধিপত্যবাদ। হ্যাঁ ভোট মানে আজাদী, না ভোট মানে গোলামী। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ়ভাবে ভোট দেওয়ার।

জামায়াত আমির বলেন, হ্যাঁ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। চাঁদাবাজির কবর রচিত হবে। কিন্তু হ্যাঁ হারলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বলেন, হ্যাঁ ভোট যেন বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়। আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে জামায়াতে ইসলামী মাথা নত করে না, - এ মন্তব্যও করেন তিনি।

নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিরীহ মা-বোনদের ওপর হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। “আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। সব বাধা উপেক্ষা করে বিজয় সন্নিকটে- ইনশাআল্লাহ, বলেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা আমির মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ জুলুম, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের শিকার হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করা।

সভাপতির বক্তব্যে মো. রুহুল আমিন বলেন, কৃষিপ্রধান এই জেলায় কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের বিকল্প নেই।

এছাড়াও জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের বিকল্প নেই এবং এজন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এর আগে বিকেল ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি