নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:01 PM
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা: ভারতের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান অন্তর্বর্তী সরকারের
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে উগ্রপন্থি ভারতীয়দের হামলার ঘটনায় দিল্লির দেওয়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার (২১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রতিক্রিয়া জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। তাঁকে সংখ্যালঘু নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা একদমই সঠিক নয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু কয়েকজন এসে হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্বরত দুইজন গার্ড উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
তৌহিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি।এর আগে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ভারতের ব্যাখ্যায় বলা হয়, গত ২০ ডিসেম্বর (শনিবার) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায় এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবি তোলে। তবে তারা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেনি বা কোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করে দিল্লি।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই দলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।