ঢাকা ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মাদানী অ্যাভিনিউয়ে সড়ক সংকুচিত, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার, ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ এমইএস গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের আয়োজনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত প্রকৌশলী মালেকের ঢাকা-গাইবান্ধার সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় আবাসন খাতে নীতিসহায়তার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো, মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ আইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজারআইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজার সামরিক শাসনের প্রথম অধ্যায়: পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ছেদ রাজউকের আবাসনে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মাদানী অ্যাভিনিউয়ে সড়ক সংকুচিত, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ অক্টোবর, ২০২৬,  6:46 PM

news image

রাজধানীর সড়কে জায়গার সংকট যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তবে ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। 
হকারদের দখল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে প্রশস্ত এই সড়কটির বড় অংশই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯০ ফুট জায়গা বেদখলে থাকায় কোনো কোনো স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১০ ফুট। এতে বাড়ছে যানজট, তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, আর প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ফুটপাত পেরিয়ে মূল সড়কের ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে হকারদের দোকানপাট। কোথাও তিন থেকে চার সারিতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ১০০ ফুট প্রশস্ততার এই সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কের বড় একটি অংশ দখল হয়ে থাকায় যানবাহনকে চলতে হচ্ছে সীমিত পরিসরে, যা ব্যস্ত সময়ে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

সড়কের পাশাপাশি ফুটপাতও দখল হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন পথচারীরা। হাঁটার নির্ধারিত জায়গা না পেয়ে অনেককে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের চলাচল বেড়ে গেলে সড়কটিতে নিরাপদে হাঁটাচলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা গেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। এসব যানবাহনের চালকদের অনেককে হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র থামা এবং মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামাতে দেখা যায়। এতে অন্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আকস্মিক সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ পার্কিংয়ের সমস্যা। সড়কের দুই পাশে, প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন সংযোগস্থলের কাছাকাছি ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়। হকারদের দখল ও যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং মিলিয়ে সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা আরও কমে গেছে। ফলে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটির এমন অবস্থা স্বাভাবিক যাতায়াতের পাশাপাশি সামগ্রিক জননিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সড়কটি এভাবে সংকুচিত হয়ে থাকলে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পুলিশের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সময় যানজট বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়ক অবিলম্বে দখলমুক্ত করা, ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী করা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি