ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 4:47 PM
অনলাইন ডেস্ক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 4:47 PM
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী
সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন, তা সংরক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি গৃহস্থালির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য পরিচালনার সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ উন্মোচন করেছে ওয়ালটন। শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়ালটনের এ সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নিজস্ব কারখানায় ছাদ ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব শিল্পকারখানায় ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ওয়ালটন।
শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, গৃহস্থালির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য সংরক্ষণ, বিনোদন, রান্নাবান্না, আলোকসজ্জা ও কাপড় ধোয়ার মতো দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তি ব্যবহারের উপযোগী পণ্যও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিনির্ভর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না।
উদ্বোধনের পর অর্থমন্ত্রী ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল, সোলার পাওয়ার কেবল, স্টোরেজ ইনভার্টার ও ব্যাটারি এবং সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তির ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন পণ্য ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, বিএলডিসি ফ্যান, সোলারভিত্তিক পেডেস্টাল ও টেবিল ফ্যান, বাল্ব এবং স্ট্রিট লাইটের প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তির এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ও স্মার্ট টেলিভিশনে সৌরবিদ্যুৎ এবং প্রচলিত গ্রিডের বিদ্যুৎ সমন্বিতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগের প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সোলার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ওয়ালটন যা করছে, তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। আগামী এক-দুই বছরে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে দেশে বড় পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর ফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং পরনির্ভরশীলতা কমে আসবে। সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি, দেশের মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারে এগিয়ে আসবেন।”
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, “ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তেও সহায়ক হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, “ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি উৎপাদনের সক্ষমতাকে একটি সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থায় যুক্ত করেছে। এ উদ্যোগ আমাদের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরও শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থাই হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা।”
তিনি মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, অগ্রগতি ও সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় হাইব্রিড প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ ও টিভি পরিচালনা করা যাবে। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে এসব পণ্য ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলতে পারবে। সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নেওয়া হবে। ফলে সূর্যালোক ও সৌরবিদ্যুতের প্রাপ্যতা অনুযায়ী গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।
এ ব্যবস্থায় এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) প্রযুক্তির সমন্বয়ে সৌরশক্তিনির্ভর নতুন মডেলের ওয়াশিং মেশিন, কুকার ও ওভেনও যুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় সোলার প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার ও বিএলডিসি ফ্যানের মতো পণ্য পরিচালনা করা যাবে।
ওয়ালটনের ইনভার্টার ব্যাটারিতে সোলার চার্জার ও এসি চার্জার থাকায় সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিড—উভয় উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।
সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেমসমৃদ্ধ ব্যাটারি। স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তি ই-বাইককে মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে পরিবহন, সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সঞ্চালন নিশ্চিত করতে ওয়ালটন এনেছে ফটোভোলটাইক বা সোলার কেবল। অতিবেগুনি রশ্মি, আর্দ্রতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী এসব কেবলে নমনীয় টিনড কপার কন্ডাক্টর ও বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।