ঢাকা ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার, ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ এমইএস গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের আয়োজনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত প্রকৌশলী মালেকের ঢাকা-গাইবান্ধার সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় আবাসন খাতে নীতিসহায়তার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো, মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ আইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজারআইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজার সামরিক শাসনের প্রথম অধ্যায়: পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ছেদ রাজউকের আবাসনে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অক্টোবরে মাঠে গড়াচ্ছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ মে, ২০২৬,  2:44 PM

news image

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কের ভেতরে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে—এমন আলোচনা যখন জোরালো, ঠিক তখনই সম্পর্ক স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রয়েছে।

তবে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশ হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরাইলকে আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর বক্তব্য আরও বেশি জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনমত জরিপকারী ডালিয়া শাইন্ডলিন বলেন, ‘নেতানিয়াহু সম্পর্কটা কতটা ভালো, সেটা এত বেশি জোর দিয়ে বলছেন যে উল্টো সম্পর্কের ফাটল নিয়েই সন্দেহ বাড়ছে। যুদ্ধটিও খুব খারাপভাবে এগোচ্ছে।’

দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হয়। দুজনই জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন এবং প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিনীতিকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান যে সামরিক পদক্ষেপই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর একমাত্র উপায়। তিনি ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ইরানের অর্থনীতি দুর্বল, জনগণ বিদ্রোহের মুখে এবং খুব দ্রুতই শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

ইসরাইলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাসের ভাষায়, ‘নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ জিতে সরকার পরিবর্তন সম্ভব।’

কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মেলেনি। ইরানে গণবিদ্রোহ হয়নি, সরকারও টিকে গেছে। বরং ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়।

পিঙ্কাস দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্যে ইসরাইলের নাম উল্লেখ কমিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এমনকি যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হলেও ইসরাইলকে পুরোপুরি অবগত রাখা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়নি, যদিও এগুলো ছিল ইসরাইলের প্রধান উদ্বেগ।

পরিস্থিতি এতটাই বদলে যায় যে, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই কয়েকবার নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করেন। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি কর্মকর্তারা নতুন সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ফের শুরু হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই চাপে ফেলেছে। নেতানিয়াহুকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, আর জনমত জরিপ বলছে তার ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও এই সংঘাত ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অ্যালন পিঙ্কাসের মন্তব্য, ‘এই যুদ্ধ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই রাজনৈতিকভাবে বিপদে ফেলেছে। এক অর্থে তারা একে অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।’

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি