ঢাকা ১৭ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শুক্রবার শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন পূর্ব পাকিস্তানের জমিন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ: রক্ত, সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের পথচলা ইজতেমা সহিংসতা মামলার তদন্তে ধীরগতি, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বন্যার দুর্যোগে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই সাংবাদিকতায় স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন হাবিবুর রহমান বাবু মেটা-গুগলের ব্যবসা বাংলাদেশে, কিন্তু জবাবদিহিতা কোথায় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আহ্বান: ডেঙ্গু রোধে সবাইকে হতে হবে সচেতন ফেনীতে সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ শিল্প খাতের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী খুলনা রূপালী ব্যাংকে আওয়ামী সিবিএ নেতাদের ‘ভোল্ট বদল’: কর্মকর্তা হয়রানি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ মে, ২০২৬,  2:44 PM

news image

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কের ভেতরে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে—এমন আলোচনা যখন জোরালো, ঠিক তখনই সম্পর্ক স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রয়েছে।

তবে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশ হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরাইলকে আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর বক্তব্য আরও বেশি জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনমত জরিপকারী ডালিয়া শাইন্ডলিন বলেন, ‘নেতানিয়াহু সম্পর্কটা কতটা ভালো, সেটা এত বেশি জোর দিয়ে বলছেন যে উল্টো সম্পর্কের ফাটল নিয়েই সন্দেহ বাড়ছে। যুদ্ধটিও খুব খারাপভাবে এগোচ্ছে।’

দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হয়। দুজনই জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন এবং প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিনীতিকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান যে সামরিক পদক্ষেপই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর একমাত্র উপায়। তিনি ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ইরানের অর্থনীতি দুর্বল, জনগণ বিদ্রোহের মুখে এবং খুব দ্রুতই শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

ইসরাইলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাসের ভাষায়, ‘নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ জিতে সরকার পরিবর্তন সম্ভব।’

কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মেলেনি। ইরানে গণবিদ্রোহ হয়নি, সরকারও টিকে গেছে। বরং ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়।

পিঙ্কাস দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্যে ইসরাইলের নাম উল্লেখ কমিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এমনকি যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হলেও ইসরাইলকে পুরোপুরি অবগত রাখা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়নি, যদিও এগুলো ছিল ইসরাইলের প্রধান উদ্বেগ।

পরিস্থিতি এতটাই বদলে যায় যে, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই কয়েকবার নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করেন। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি কর্মকর্তারা নতুন সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ফের শুরু হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই চাপে ফেলেছে। নেতানিয়াহুকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, আর জনমত জরিপ বলছে তার ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও এই সংঘাত ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অ্যালন পিঙ্কাসের মন্তব্য, ‘এই যুদ্ধ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই রাজনৈতিকভাবে বিপদে ফেলেছে। এক অর্থে তারা একে অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।’

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি