নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, 11:42 PM
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে ভোটারদের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাদের হাতে যাবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক জনগণই।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ভোটের গাড়ি’ শীর্ষক ভোটার সচেতনতামূলক প্রচারণার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“আপনি দেশের মালিক। এ দেশ আগামী পাঁচ বছর আপনার পক্ষে কে চালাবে, সেটা আপনি ঠিক করুন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নিন। চিন্তা-ভাবনা করে ভোট দিন।”
বাসস জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোট সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে থাকবে না ভয় বা বাধা, থাকবে জনগণের অবাধ ও নির্ভীক মতপ্রকাশ।
“আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে না বাধা—থাকবে কেবল জনগণের মুক্ত ও নির্ভীক মত প্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর,” বলেন তিনি।
তরুণ সমাজ, নারী ভোটার ও প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের বিশেষভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি কেবল একটি গাড়িবহর নয়, বরং গণতন্ত্রের আনন্দবাণী বহনকারী একটি উদ্যোগ।
“এই সুপার ক্যারাভান মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে—একটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি মনে করিয়ে দেবে, নিষ্ক্রিয়তা নয়, অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, মোট ১০টি ‘ভোটের গাড়ি’ দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবে এবং গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য আসন্ন গণভোটে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “এই গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এর মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ধরন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশে পরিবর্তনের ধারাকে সত্যিকার অর্থে সূচিত করবে।