ঢাকা ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মাদানী অ্যাভিনিউয়ে সড়ক সংকুচিত, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার, ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ এমইএস গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের আয়োজনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত প্রকৌশলী মালেকের ঢাকা-গাইবান্ধার সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় আবাসন খাতে নীতিসহায়তার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো, মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ আইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজারআইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজার সামরিক শাসনের প্রথম অধ্যায়: পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ছেদ রাজউকের আবাসনে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় বন্ধ হয়নি, নিয়মিতও নিচ্ছে না ময়লা

#

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  2:04 PM

news image

বাসাবাড়ির ময়লা ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজধানীর পলাশী মোড়সংলগ্ন এলাকায়রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ময়লার বিলের রসিদ আসে ১২০ টাকার। কিন্তু তাঁকে আরও ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়। এই অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি বাসা থেকে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।

যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় আরও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করলেন স্থানীয় বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখনো প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়াও হয় না। দু–তিন মাস ধরে দুই বা তিন দিন পরপর ময়লা নিতে আসছেন কর্মীরা।

বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে বিভিন্ন এলাকায় এ সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আবদুস সালাম, প্রশাসক, ডিএসসিসি

ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না। এতে ময়লা জমে থাকা, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ময়লা সংগ্রহের বাণিজ্য নিয়ে গত মে মাসে প্রথম আলোয় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কষ্টের কাজটি করেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা; কিন্তু আদায় করা টাকার বড় অংশ তাঁদের হাতে যায় না, যায় নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। এই খাতের নিয়ন্ত্রণকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী।

বেশি টাকার নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারদের সতর্ক করেন। তিনি বলেছিলেন, বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় করা হলে প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।

নগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা বাণিজ্য চলতেই থাকবে।

গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের সই করা এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, পিসিএসপিগুলো প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকার বেশি ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বরাবর সাত দিন পরপর প্রতিবেদন দিতে হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি