কর কর্মকর্তা আব্দুল আলিম সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: নামে-বেনামে বহুতল ভবন, প্লট ও বিপুল সম্পদের তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট, ২০২৬, 2:09 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট, ২০২৬, 2:09 PM
কর কর্মকর্তা আব্দুল আলিম সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: নামে-বেনামে বহুতল ভবন, প্লট ও বিপুল সম্পদের তথ্য
রাজধানীর ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় একের পর এক বহুতল ভবন, মূল্যবান জমি ও বিলাসবহুল স্থাপনার মালিকানা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উপ-কর কমিশনার আব্দুল আলিম সরকার (পলাশ)-এর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি, বহুতল ভবন ও প্লট রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
ধার্মিক পাড়ায় বিলাসবহুল ভবন
ডেমরার ধার্মিক পাড়া বাবুল মোল্লা রোড এলাকায় প্রায় ১৫ কাঠা জমির ওপর একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। একই এলাকার আশপাশে তার ও পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন আরও কয়েকটি বহুতল ভবন রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কোনাপাড়ায় একাধিক বহুতল ভবন
ডেমরার কোনাপাড়া শাহজালাল রোড এলাকায়, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৩৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট ‘আসমানী ভবন’ রয়েছে। ভবনটির মালিকানা নিয়েও আব্দুল আলিম সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ভবনটির বিপরীত পাশে রয়েছে আরও একটি বহুতল ভবন। পাশাপাশি আসমানী টাওয়ারের সংলগ্ন এলাকায় ‘বাবুই কুঠির’ নামে আরেকটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ২৩২/৬২ নম্বর হোল্ডিংয়ে তিনতলা একটি ভবনেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।
গ্রীন মডেল টাউনেও নির্মাণাধীন ভবন
রাজধানীর গ্রীন মডেল টাউনের মেলার পূর্ব পাশে আরও একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কুমিল্লায়ও সম্পদের তথ্য
রাজধানীর বাইরে আব্দুল আলিম সরকারের নিজ জেলা কুমিল্লাতেও মূল্যবান জমি ও সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ছেলেদের নামে কয়েক কোটি টাকার ব্যাংক আমানত রয়েছে এবং বড় ছেলের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয় ও বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদ এবং জীবনযাপনের ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
যা বলছেন আব্দুল আলিম সরকার
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আলিম সরকার বলেন, এসব তথ্য ভিত্তিহীন। তার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই এবং তার মালিকানাধীন সব সম্পদের আয়কর নথি রয়েছে।
তবে কোনাপাড়ার শাহজালাল রোড এলাকার ৩৩৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে থাকা ‘আসমানী ভবন’-এর ফ্ল্যাট এবং আসমানী টাওয়ারের সংলগ্ন ‘বাবুই কুঠির’ তার নিজস্ব সম্পত্তি বলে তিনি স্বীকার করেন। কুমিল্লায় থাকা সম্পদ পৈতৃকসূত্রে পাওয়া বলেও জানান তিনি।
তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং এসব সম্পদ অর্জনে অর্থের উৎস কী ছিল-তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।