ঢাকা ১৭ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শুক্রবার শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন পূর্ব পাকিস্তানের জমিন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ: রক্ত, সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের পথচলা ইজতেমা সহিংসতা মামলার তদন্তে ধীরগতি, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বন্যার দুর্যোগে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই সাংবাদিকতায় স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন হাবিবুর রহমান বাবু মেটা-গুগলের ব্যবসা বাংলাদেশে, কিন্তু জবাবদিহিতা কোথায় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আহ্বান: ডেঙ্গু রোধে সবাইকে হতে হবে সচেতন ফেনীতে সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ শিল্প খাতের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী খুলনা রূপালী ব্যাংকে আওয়ামী সিবিএ নেতাদের ‘ভোল্ট বদল’: কর্মকর্তা হয়রানি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

অবহেলা থেকে ক্ষমতায়ন: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন, ২০২৬,  7:24 PM

news image

প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। দেশের বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার হয়ে দিনাতিপাত করছে। 

পাঁচ বছরে একবার ভোটের সময় ছাড়া সাধারণত কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। অথচ এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলোই কঠোর পরিশ্রমে ফসল ফলিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে রাখে, আমাদের জীবনকে সুন্দর করে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে খুব কম নেতাই তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে সরাসরি মাঠপর্যায়ে গেছেন। 

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই অবহেলিত মানুষের মুখে এখন হাসি ফুটতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তারা প্রকৃত আপনজন হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন। 

ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসাবে তিনি শহীদ জিয়ার গ্রামীণ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নেমেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান ছিল অপরিসীম। মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের আশায় তারা জীবন বাজি রেখেছিলেন। তবে স্বাধীনতার পর তাদের প্রথম আশার আলো দেখান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেড়াতেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের আসল শক্তি নিহিত রয়েছে গ্রামে। তাই তিনি রাজনীতিকে শহর থেকে গ্রামে নিয়ে যান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত শাসনামলে তিনি ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ ও ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন। কোদাল হাতে পাতলী খাল খননের মতো দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচির সূচনা করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে প্রান্তিক মানুষ তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারিয়ে আবার অবহেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।

তারেক রহমান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৃণমূলের ক্ষমতায়নে কাজ করে চলেছেন।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার পিতার মতই তিনি প্রান্তিক মানুষের সেই আপনজন হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। 

ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করার অনেক আগে থেকেই, অর্থাৎ ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে 'তৃণমূল সম্মেলন' আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক অভিনব ধারার সূচনা করেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের রাজনীতি ছেড়ে তিনি কৃষকের আঙিনায় গেছেন। স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দূর দেশে অবস্থান করেও আধুনিক প্রযুক্তির (স্কাইপ, জুম) মাধ্যমে তিনি দলের হাল ধরেন। বড় বড় নেতাদের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিতেন মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মতামতকে। বিগত ১৭ বছরের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের মুখেও বিএনপি যে আজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর মূল ভিত্তি ছিল তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক দূরদর্শী রাজনীতি।

রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন অবহেলিত জনপদে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও। সবখানের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন—"গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। হবে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই সামগ্রিক দেশের প্রকৃত উন্নয়ন। সাড়ে চার দশক পর তৃণমূলের মানুষ আবার তাদের এক পরম সুহৃদকে ফিরে পেয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি